1. info@sangbadshariatpur.com : sangbad_shariatpur : সংবাদ শরীয়তপুর
  2. info@www.sangbadshariatpur.com : সংবাদ শরীয়তপুর :
শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৫৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
শরীয়তপুরে ৩০ গ্রামে ঈদ উদযাপন শরীয়তপুরের জাজিরায় হিজড়া সম্প্রদায়কে ঈদ উপহার প্রদান বন্ধুপ্রতিম ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের সম্মানে শরীয়তপুর ছাত্রশিবিরের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বাস চাপায় যুবকের মৃ-ত্যু, বাস আ-ট-ক করায় স্কুল ছাত্রের হাত ভে-ঙ্গে দিলেন আওয়ামী নেতা আ. লীগের নিবন্ধন বা-তি-ল ও রাজনীতি নি-ষি-দ্ধ করতে হবে সিলেটের গোলাপগঞ্জে ৭ শহিদ পরিবার পেল জেলা প্রশাসকের ঈদ উপহার সখিপুর থানার বিএনপির ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ফিলিস্তিনিদের নির্বিচারে বো-মা হা-ম-লা করে শিশু নিরীহ নারি পুরুষ কে হ-ত্যা-র প্রতিবাদে রহনপুরে বিক্ষোভ মিছিল “ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি গন-হ-ত্যা-র প্রতিবাদে শরীয়তপুরে ইসলামি ছাত্র শিবির  বিক্ষোভ মিছিল”

৫২-র ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় স্বীকৃতি, শরীয়তপুরে মৃত ভাষা সৈনিকদের কবর বাধাই, ও জেলা কার্যালয়ে নির্মাণের দাবি

সংবাদ শরীয়তপুর ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত : শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

“৫২-র ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী আমরা পালং ক’জন শরীয়তপুর” নামে একটি সংগঠন করেছি ২০০৮ সালে। ইতোমধ্যে বিগত ১৭ (সতের) বছরে আমাদের ২৫ (পঁচিশ) জন সাথী রোগ ভোগ ও বাধ্যক্যজনিত কারণে মৃত্যু বরণ করেছেন। বর্তমানে আমরা ৭ (সাত) জন জীবিত আছি। এর মধ্যে ৬ (ছয়) জন চলাফেরা করতে পারি। অন্য ১ (এক) বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ্যতায় ভূগছেন। ২১ শে ফেব্রুয়ারি চলে আসল। দিনটি আমাদের শ্রদ্ধার দিন। প্রতিবছরের ন্যায় খরচ কমাতে এইবারও ১৭০ টাকা দিয়ে ৫ টি গাঁদা ফুলের মালা কিনে এনেছি। ৫টি গাঁদা ফুলের মালা সুতা খুলে আমাদের জন্য জন্য ছয়টি মালা বানিয়েছে। প্রতিবছরে পূর্বের দিন ২০ শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আমরা নিজেরা এ মালা তৈরি করি। হয়ত বেশিদিন আর বাচব না। আমাদের স্মরণ করার জন্য, আমাদের স্মৃতিচারণ করার জন্য আমাদের স্বীকৃতি প্রয়োজন। সরকারের কাছে অনুরোধ বাংলা ভাষার জন্য যার আন্দোলন করেছে তাদেরকে স্বীকৃতি দেয়া হোক। মুক্তিযোদ্ধাদের মত আমরাও স্বীকৃতি চাই। যাতে আগামী প্রজন্ম মুক্তিযোদ্ধাদের মত ভাষা সৈনিকদের অবদানের কথা চিরদিন মনে রাখে।

শুক্রবার সকালে ৫টি গাঁদা ফুলের মালা হাতে নিয়ে পাঁচজন ভাষা সৈনিক শরীয়তপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একুশে ফেব্রুয়ারী তে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে আসলে, প্রতিবেদককে এইসব কথা তুলে ধরেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ভাষাসৈনিক জালাল উদ্দীন আহমেদ। তিনি জানান, পূর্ব বাংলার রাষ্ট্রভাষার আন্দোলন শুরু হওয়ার পরে পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ ১৯৪৮ সালে মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ঢাকা আসেন। ২১ মার্চ ঢাকা রমনার এক বিরাট জনসভায় তিনি ঘোষণা করেন (Urdu shall be the state language of Pakistan) উর্দু হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। উপস্থিত জনতার মধ্য থেকে বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা প্রতিবাদ জানাল। বলে উঠল না-না-না। কিন্তু জিন্নাহ সাহেব তাদের প্রতিবাদে কর্ণপাত না করে তিনি পুনরায় দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করলেন- Urdu and Urdu shall be the state language of Pakistan. উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। এবার বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা বজ্রকণ্ঠে বলে উঠল- না-না-না তা হবে না। ভেঙেগেল সভা। শুরু হলো বাংলা ভাষা আন্দোলন।

ভাষা আন্দোলনের এ প্রভাবটি বাংলাদেশের অনেক যায়গায়ই ছড়িয়ে পড়েছিল। তখন এখনকার মত এত আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না, ছিলনা স্মার্টফোনের ব্যবহার। তখন যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল লঞ্চ, স্টিমার ও টেলিগ্রাম। ঢাকা থেকে যখন লঞ্চে করে কেউ শরিয়তপুরে আসতো তখন আমরা তাদের কাছে শুনতাম রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার জন্য ঢাকায় আন্দোলন চলছে। পাশাপাশি আমাদের বড় ভাইদের কাছেও আন্দোলনের টেলিগ্রাম আসতো। সেখান থেকেও আমরা আন্দোলনের বিষয়টি জানতাম। ঢাকা আন্দোলনের বিষয়টি জানার পর, আমরাও পালং-এ প্রতিবাদ করেছি। আমরা পোস্টার লাগিয়েছি, মিটিং করেছি, মিছিল করেছি। ৫২-র ভাষা আন্দোলনের সময় পালং থানা পুলিশ বুড়ির হাটের চৌধুরী মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে। তাকে গ্রেফতার করে আমাদের বিদ্যালয় তুলাসার গুরুদাস হাই, ইংলিশ স্কুল (বর্তমান পালং তুলাশার গুরুদাস সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়) সামনে দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন আমি ৭ম শ্রেণির ছাত্র। তাকে ছাড়িয়ে আনার জন্য আমরা কয়েকজন মিলে পালং থানা পর্যন্ত গিয়েছিলাম। মুজিবুর ভাইকে ছাড়া আমরা যাবো না। তাই থানার সামনে প্রায় ৪ ঘন্টা অবস্থান নেই। পরে থানা থেকে বলে দিল তাকে ছাড়া হবে না, বলে আমাদের ভয় দেখানো হয়। বলা হয় তাকে কোর্টে পাঠাতে হবে। পরে আমরা চলে আসি।এলো রক্তক্ষয়ী ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি। ১৪৪ ধারা ভংগ করে ছাত্র-জনতা নেমে এলো রাস্তায়। শ্লোগান দিল- রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই। বাঙালীর এ আন্দোলনকে প্রতিহত করার জন্য শাসকগোষ্ঠী বুলেট চালাল বাঙালীর বুকে। শহীদ হলো বাংলা মায়ের দামাল ছেলে রফিক, শফিক, সালাম, বরকত, জব্বার আরো কত! রাক্তে রঞ্জিত হল রাজপথ।আমরা বিশেষ করে তুলাসার গুরুদাস উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয়ে ১৯৫২ সালের পর ১৯৫৩ সাল থেকে প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি পরম শ্রদ্ধার সাথে দিবসটি পালন করি। তিনটি কলাগাছ পুঁতে শহীদ মিনার বানিয়ে কঞ্চি পুঁতে বেড়া দিতাম এবং সুতলি টানিয়ে স্থানটিকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে নিতাম। এ কাজটি আমরা দুপুরের মধ্যে শেষ করে ফেলতাম। বিকেল বেলা ফুল সংগ্রহ করতাম। সন্ধ্যার পর থেকে আমরা স্কুলে সমবেত হতাম। একটা কক্ষে অবস্থান করতাম। রাত ১২টা বাজার আগেই একজন শিক্ষকের নেতৃত্বে বড় ভাইদের সাথে খালি পায়ে ফুল নিয়ে লাইন করে মাঠে গিয়ে দাঁড়াতাম। রাত্রি ১২টা বাজার সাথে সাথে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে খালি পায়ে বাড়ি যেতাম। ১৯৫৬ সাল থেকে প্রভাত ফেরী করতাম। তাতে একজন সংগীত শিল্পী হারমোনিয়াম কাঁধে নিয়ে “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি” গানটি কোরাস গাইতে গাইতে ফজরের আযানের আগেই নগ্ন পায়ে স্কুলে ফিরে আসতাম। প্রভাত ফেরী শেষ হত ফজরের আযানের আগেই। তারপর আমরা স্কুলে এক রুমে শুয়ে পড়তাম আবার ভোর ৭টায় সকল ছাত্র সহ কলা গাছ দিয়ে তৈরি শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতাম।আমি একজন বাংলা ও ইংরেজি ভাষা ব্যাকরণের শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের এখনো আমি ব্যাকরণ শিখাই। ইংরেজি ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু যেহেতু আমাদের মাতৃভাষা বাংলা তাই বাংলা ভাষার চর্চা বাড়াতে হবে। প্রত্যেকটা বাঙালিকে বাংলা ভাষার ইতিহাস জানতে হবে, কবিতা, গল্প, উপন্যাস পড়তে ও লিখতে হবে। তাহলেই বাংলা ভাষা চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। ইদানিং দেখি ইংরেজি মিডিয়ামের শিক্ষার্থীরা শুদ্ধভাবে বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারেনা। এই বিষয়টা দুঃখজনক। ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি তাদেরকেও বাংলা ভাষার চর্চাটা বাড়াতে হবে। এজন্য ইংরেজি মিডিয়ামের শিক্ষকদের ভূমিকা বাড়াতে হবে। অন্যদিকে ভাষা সৈনিক পূর্ণচন্দ্র দে, প্রতিবেদককে কয়েকটি দাবী তুলে ধরেন, তিনি বলেন খুব শীঘ্রই হয়তো আমরা পৃথিবী থেকে বিদায় নেব। আমাদের সামান্য কিছু দাবিদাওয়া ছিল। ৫২-র ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী আমরা পালং ক’জন শরীয়তপুর” এর মতো দেশের কোথাও ভাষা সৈনিকদের প্রতিষ্ঠান নেই। দেশের অন্যান্য জেলা খোঁজখবর নিও আমরা এই ধরনের কোন প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন পাইনি। ৩২ জনের মধ্যে আমাদের ২৫ জন ভাষা সৈনিক মারা গেছেন মাত্র সাত জন জীবিত আছেন। আমাদের দাবি যেসব ভাষা সৈনিকেরা ইতিমধ্যে মারা গেছেন। তাদের কবর বাধাই করে দেয়া হোক, সেখানে নাম ফলকে থাকবে ওই ভাষা সৈনিকের নাম। পাশাপাশি আমরা চাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মরা যেন ভাষা সৈনিকদের কথা মনে রাখে। সেজন্য সরকারের কাছে আবেদন করি যেন আমাদের একটি কার্যালয় বা ভবন নির্মাণ করে দেন। আমাদের একটি জায়গা রয়েছে সে জায়গাটিতেই এ কার্যালয়টি করা হোক। সরকার যদি, সেগুলো পুরন করত তাহলে মনে শান্তি পেতাম।তাদের এই আবেদনের বিষয়টির বিষয়ে জানতে চাইলে, জেলা প্রশাসক শরীয়তপুর, মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন মুঠোফোনে দুপুর ২ টা ৪০ মিনিটে প্রতিবেদকে বলেন, যেহেতু আমি নতুন যোগদান করেছি এই বিষয়টি আমি অবগত নই। ভাষা সৈনিকেরা তাদের আবেদন নিয়ে আমার কাছে আসেননি। শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাষা সৈনিকদের সম্বর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। তারা চাইলেই তাদের আবেদন সেখানে আমাদের জানাতে পারেন। আপনার মাধ্যমেই, ভাষা সৈনিকদের কবর বাধাই ও কার্যালয় নির্মাণের বিষয়টি জানতে পারলাম। আমাকে খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে তারা কোনো আবেদন করেছেন কিনা। ভাষা সৈনিকদের শ্রদ্ধার সাথে আমি সম্মান জানাই। তারা যদি আবেদন করেন সেটি মন্ত্রণালয় পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নিবেন। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং বাজেট প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট